advmain

মাসিক ই-পত্রিকা ‘উৎস’ বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে( বিস্তারিত)। ইমেলে লেখা/ছবি পাঠাবেন না। মন্তব্য/অভিযোগ: ক্লিক করুন

পুনর্মিলন হতেই হবে -সুভাষ কর


এজীবনে একটা মানুষের তরফে ভালবাসা দেবার আধারের কোন শেষ নেই। শুধু অন্য আরেকটা মানুষকে ভালবাসারই তো কত রকমফের নজরে পড়ে ! স্রেফ প্রেমিক বা প্রেমিকাকেই তো নয়- আরো শতসহস্রজনকে ভালবাসা দেয়া যায়। মা-বাবাকে ভালবাসা, ভাই বোনদেরকে ভালবাসা, সন্তানদেরকে ভালবাসা। পাড়া-প্রতিবেশী, বন্ধুবান্ধব, আত্মীয়স্বজন, সহকর্মী কতজনকেই না ভালবাসা যায় ! মানুষের পরেও পোষ্য প্রাণী, গাছপালা, পাহাড়, নদী, সমুদ্র, রোদ কিংবা বৃষ্টিকেও গভীরভাবে ভালবাসতে অসুবিধে কোথায়? কেউ বা আবার মানুষের সৃষ্ট শিল্প সাহিত্য সংস্কৃতিকে ভালবেসে কখনো কখনো প্রায় অর্ধোন্মাদ হয়ে যায়। না, সে উন্মাদনায় অবশ্যি সাধারণতঃ কোন স্বার্থপরতার স্থান থাকে না, থাকে নিছক আনন্দ সংগ্রহের এক নির্মল অভিপ্রায়।

হ্যাঁ, বোধহয় বছর তিনেক আগে আমিও কেমন করে সাহিত্যের আনন্দ পিপাসু এক উন্মাদ-আশ্রমের প্রেম-বাঁধানো উঠোনে পা দিয়ে ভালবাসার টানে তেমন কিছু বিরল উন্মাদের সাথে নিবিড়ভাবে জড়িয়ে পড়েছিলাম। নিজে পক্বকেশ হয়েও ঐ একদল সাহিত্য প্রেমিকের তারুণ্যের সবুজ আভায় নিজেকে স্নিগ্ধ ও শ্যামল করে তুলেছিলাম। অনলাইনের যান্ত্রিকতাকে আশ্রয় করে শুরু হওয়া যাত্রাপথে হঠাৎই দেখা দিল এক অযান্ত্রিক ‘উৎস’, আর সেই উৎসমুখে একবার পৌঁছে গিয়েই ইচ্ছে হ’ল- কেননা বর্তমান সমাজের অন্ধকার থেকে উৎসারিত ঐ আলোর দীপশিখার পবিত্র দ্যুতিতে নিজেও প্রজ্বলিত হই আর নিজ সামর্থ্যের মধ্যে সতীর্থদেরও বিকাশলাভে কিছুটা সহায়তা দেই? সবার তাতে সায়ও পেলাম। পারস্পরিক দেয়া-নেয়ার এই স্বল্পদৈর্ঘের অধ্যায়টি কিন্তু মোটেও কম উপজীব্য ছিল না।

আজ যে কারণেই হোক, ঐ আশ্রমটির কর্মকান্ডে এক বিরতির যতিচিহ্ন পড়তে যাচ্ছে। হয়তো এ দায় সম্মিলিতভাবে আমাদের সকলেরই; কিন্তু আমি বিশ্বাস করি সাহিত্যের প্রতি স্বার্থহীন এই অনুরাগ আমাদের মধ্যে যার যতটুকুই রয়েছে, তা অক্ষুণ্ন রেখে সুযোগমতো আমরা নিশ্চয়ই আবারো আমাদের আনন্দের এক উৎসের সন্ধানে সঠিক দিশায় চলতে সমর্থ হব। এক নতুন উৎসমুখে আমাদের মতো বিরল এই উন্মাদদের পুনর্মিলন আবার হতেই হবে।



এটিই মাসিক ই-পত্রিকা ‘উৎস’-এর সর্বশেষ সংস্করণ। (বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন)

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ